সংগঠন কাঠামোর ধারণা

একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি - ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা - ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র | NCTB BOOK
1.7k
Summary

মি. রায়হান রসায়ন শাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর চাকরি করেননি। তিনি একটি ছোট কসমেটিক্স কারখানা শুরু করেন, যেখানে শুরুতে নিজেই কাজ দেখতেন এবং পণ্য বিক্রি করতেন। তার পণ্যের মান এবং সুগন্ধ ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে, ফলে ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পরে, উৎপাদনের জন্য জুনিয়র কেমিস্ট এবং বিক্রয়ের জন্য বিবিএ পাস গ্রাজুয়েট নিয়োগ দেন। উৎপাদনের মান নিশ্চিত করতে কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার এবং মার্কেটিং বিভাগের জন্য সেলস প্রমোশন অফিসার নিয়োগ করা হয়।

বর্তমানে, তার প্রতিষ্ঠান বড় হয়ে গেছে এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত হয়েছে। প্রশাসনিক, মানবসম্পদ, ক্রয় ও অর্থ বিভাগ খুলে বিভিন্ন বিচিত্র যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এখন তিনি প্রতিষ্ঠানের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) এবং প্রতিষ্ঠানে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। মি. রায়হান একটি বিল্ডিং নির্মাণের মত ধীরে ধীরে এই কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা সংগঠন কাঠামো বা সংগঠন চার্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়।

সংগঠন কাঠামো হলো প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগ, উপবিভাগ ও কর্মীদের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি কাঠামো চিত্র। এর আয়তন এবং কর্মীর সংখ্যা স্তর বিন্যাসের ওপর নির্ভরশীল; স্তর বাড়লে আয়তন বাড়ে এবং এটি পিরামিড আকৃতির হতে পারে।

মি. রায়হান রসায়ন শাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে চাকরি করেননি । প্রথমে কয়েকজন কর্মী সাথে নিয়ে তিনি একটা ছোট কসমেটিক্স সামগ্রী তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন। প্রথমে নিজেই কর্মীদের কাজ দেখেছেন । উৎপাদিত পণ্য দোকানে ঘুরে ঘুরে বিক্রয় করেছেন। তার উৎপাদিত পণ্যের মান ও এর সুগন্ধ দ্রুতই ক্রেতাদের নজর কাড়ায় তার ব্যবসায় দ্রুত বাড়তে থাকে । এক পর্যায়ে উৎপাদনের কাজ দেখার জন্য তিনি একজন জুনিয়র কেমিস্ট নিয়োগ করেন। বিক্রয় দেখার জন্য বিবিএ পাস করা একজন গ্রাজুয়েটকে দায়িত্ব দেয়া হয় । পরে উৎপাদিত পণ্যের মান নিশ্চিত করার জন্য কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার এবং বিক্রয় কার্য সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে মার্কেটিং বিভাগ খুলে তার অধীনে সেলস প্রমোশন অফিসার নিয়োগ করেন । এখন তার কারখানা অনেক বড় হয়েছে । নতুন নতুন আধুনিক যন্ত্র বসেছে। সারা দেশে পরিবেশক নিয়োগ দিয়েছেন । প্রশাসনিক বিভাগ, মানবসম্পদ বিভাগ, ক্রয় বিভাগ, অর্থ বিভাগ ইত্যাদি খুলে বিভিন্ন যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে । এখন তিনি প্রতিষ্ঠানের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) । এভাবে তার প্রতিষ্ঠানে ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ধাপে ব্যবস্থাপক ও কর্মী মিলে একটা শক্তিশালী ও দৃশ্যমান সম্পর্কের রূপরেখা গড়ে উঠেছে । যেই সম্পর্কের মূলকেন্দ্রে আছেন তিনি। আর তা ধীরে ধীরে বিভিন্ন বিভাগ ও উপবিভাগে ভাগ হয়ে নিচের দিকে বিস্তৃত হয়েছে । মি. রায়হান ভাবেন, একটা বিল্ডিং যেভাবে ধীরে ধীরে নির্মিত হয়ে একটা বৃহৎ অবকাঠামোতে রূপ নেয় আজ তার শিল্পও ধীরে ধীরে এ ধরনের একটা কাঠামোর রূপ নিয়েছে । প্রথমে তিনি স্বল্প সংখ্যক কর্মী নিয়ে যেই প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন সেখানেও একটা কাঠামো ছিল । কিন্তু আজ তা সত্যিই দৃশ্যমান । মি. রায়হানের প্রতিষ্ঠানে যে সম্পর্কের কাঠামো আমরা অনুমান করতে পারি তাকেই সংগঠন কাঠামো বলে । যদি তা একটা চিত্রে তুলে ধরা হয় তবে তাকে সংগঠন কাঠামো চিত্র (Organogram) বলা হয়ে থাকে ।

সংগঠন কাঠামো হলো প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বিভিন্ন বিভাগ, উপবিভাগ ও কর্মীবৃন্দের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি কাঠামো চিত্র । সংগঠন কাঠামোকে যখন একটি চিত্রে উপস্থাপন করা হয় তখন ঐ চিত্রকে সংগঠন চার্ট নামে অভিহিত করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তর, বিভাগ, উপবিভাগ এবং ক্ষমতা প্রবাহের চিত্র প্রদর্শিত হয় ।

সংগঠন কাঠামোর আয়তন-এর কাজ ও কর্মীর সংখ্যা এবং এর স্তর বিন্যাসের ওপর নির্ভরশীল । স্তর বিন্যাস যত বৃদ্ধি পায় সংগঠন কাঠামোর আয়তনও ততো বাড়ে। সংগঠন চিত্র ততোই ওপরের একক কেন্দ্র হতে নিচের দিকে বিস্তৃতি লাভ করে । ফলে এটি অনেকটা পিরামিডের আকৃতি পায় । নিম্নে একটা সংগঠন কাঠামো চিত্র তুলে ধরা হলো:

চিত্র : একটা সংগঠন কাঠামো চিত্র

 

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...